দেশের ৬ জেলায় কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টির সময় বজ্রপাতে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে সবাই কৃষক ও শ্রমিক। যারা মাঠে বোরো ধান ও ভুট্টা কাটার কাজ করছিলেন। এসব ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।

বুধবার (৬ মে) দুপুর থেকে বিকেলের মধ্যে নওগাঁ, জামালপুর, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম, ময়মনসিংহ ও নাটোরে বজ্রপাতের এসব ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে নওগাঁয় ৩ জন, জামালপুরে ১ জন, লালমনিরহাটে ১ জন, কুড়িগ্রাম ১ জন, ময়মনসিংহে ১ জন ও নাটোরে ১ জন।

নওগাঁ: নওগাঁর নিয়ামতপুর ও মহাদেবপুর উপজেলায় বজ্রপাতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। মহাদেবপুর উপজেলার খাজুর ইউনিয়নের কুড়াপাড়া গ্রামে জমিতে ধান কাটার সময় বজ্রাঘাতে দিলিপ চন্দ্র বর্মণ নিহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

একই উপজেলার নিয়ামতপুরে ধান কেটে আনার সময় অনুকূল চন্দ্র মাহন্ত নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়। এছাড়া হাজিনগর ইউনিয়নের খোদ্দচাম্পা গ্রামে ধান কাটার সময় অজ্ঞাতপরিচয় এক শ্রমিক বজ্রপাতে নিহত হন।

ময়মনসিংহ: নান্দাইল উপজেলার খারুয়া ইউনিয়নের রাজাবাড়িয়া গ্রামে বাড়ির পাশের জমিতে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে আব্দুর রশিদ (৫৫) নিহত হন। আকস্মিক বৃষ্টির মধ্যে বজ্রাঘাতে তিনি মাঠেই লুটিয়ে পড়েন। পরে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

লালমনিরহাট: কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী ইউনিয়নের ভুল্যারহাট এলাকায় ভুট্টাক্ষেতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে ইউসুফ আলী (৪০) নিহত হন। বৃষ্টির সময় আবারও মাঠে ফিরে কাজ করার সময় তিনি বজ্রাঘাতে গুরুতর আহত হন এবং পরে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

কুড়িগ্রাম: নাগেশ্বরী উপজেলার বদিজামালপুর গ্রামে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে ওবাইদুল ইসলাম নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

জামালপুর: দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের নাজিরপুর এলাকায় নিজ ভুট্টাক্ষেতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে সোহেল মিয়া (৩০) নিহত হন। বিকেলের হঠাৎ বজ্রসহ বৃষ্টির মধ্যে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

নাটোর: লালপুর উপজেলার বিলবাড়িয়া ইউনিয়নের নওপাড়া গ্রামের নওসাড়া সুলতানপুর চরের মাঠে কৃষিকাজ করার সময় বজ্রপাতে আজিজ মন্ডল (৪৫) নিহত হন। স্থানীয়রা জানান, পদ্মার চরের ওই এলাকায় হঠাৎ ঝড় শুরু হওয়ায় অনেক কৃষক দৌড়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করলেও তিনি আর সময় পাননি।